জাতীয় অর্থনীতির বহিঃবাণিজ্য ভারসাম্য সূচকে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিপিএম-৬ রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি দায় পরিশোধে সক্ষম।
অর্থনীতিবিদরা উল্লেখ করছেন, আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে গৃহীত কাঠামোগত সংস্কার এবং হুন্ডি প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি রেমিট্যান্সের স্থিতিশীল প্রবাহ তৈরি করেছে। একই সাথে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের তারল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে রিজার্ভ বিক্রি করে এলসি নিষ্পত্তির ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণ হ্রাস পেয়েছে।
পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক জারিকৃত পিএসডি সার্কুলার ০৫-এর মাধ্যমে জাতীয় খুচরা আর্থিক অবকাঠামোয় 'বাংলা কিউআর' প্রমিতকরণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রান্তিক ব্যবসা এবং অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সরাসরি ডিজিটাল আর্থিক নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হবেন।
নীতি বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক খাতের এই স্থিতিশীলতাকে টেকসই করতে হলে রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।



