বাংলাদেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল মেরুদণ্ড হলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো। দেশের প্রায় সত্তর শতাংশ সাধারণ মানুষ প্রাথমিক ও মাঝারি চিকিৎসার জন্য উপজেলা পর্যায়ের এই সরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখনো অনেক প্রত্যন্ত উপজেলায় চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতির অভাবে দরিদ্র রোগীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
সম্প্রতি দেশের কয়েকটি জেলায় দেখা গেছে, আল্ট্রাসনোগ্রাম বা এক্স-রে মেশিন থাকলেও দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে সেগুলো অচল পড়ে রয়েছে। এর ফলে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে বেসরকারি ক্লিনিকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন এবং নরমাল ডেলিভারির জরুরি ওষুধ সরবরাহে কোনো ঘাটতি থাকা গ্রহণযোগ্য নয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল বায়োমেট্রিক নজরদারি এবং বিশেষ প্রণোদনা ভাতার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। তবে এর পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্বক্ষণিক জরুরি বিভাগ পরিচালনা এবং নিবিড় পরিচর্যার প্রাথমিক অক্সিজেন সাপোর্ট সেন্টারগুলো সক্রিয় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আমরা মনে করি, গ্রামীণ স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়ন ছাড়া টেকসই সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (Universal Health Coverage) অর্জন সম্ভব নয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য প্রশাসনের কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রান্তিক মানুষের সুচিকিৎসা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করতে হবে।


