শরীয়তপুর, ২২ সেপ্টেম্বর (দেশপত্রিকা প্রতিনিধি): আশ্বিনের পূর্ণিমা ও অমাবস্যা ঘিরে মা ইলিশের নিরাপদ ডিম ছাড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আসন্ন ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা সফল করার লক্ষ্যে শরীয়তপুরে স্থানীয় জেলে, ট্রলার মালিক এবং মৎস্যজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য দপ্তর ও নৌপুলিশের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, দেশের ইলিশ সম্পদের টেকসই উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়। প্রতি বছর এ সময়ে মা ইলিশ সাগর থেকে নদী অববাহিকায় উঠে এসে ডিম ছাড়ে। এই ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা পুরোপুরি বন্ধ রাখা গেলে কোটি কোটি ইলিশের পোনা জন্ম নেবে, যার সুফল পরবর্তী মৌসুমে মৎস্যজীবীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগ করবেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকাকালে পদ্মা ও মেঘনা নদীর নির্ধারিত অভয়াশ্রম এলাকায় কোনো ট্রলার বা নৌকা নামানো যাবে না। বরফকলগুলো বন্ধ থাকবে এবং মাছের আড়তগুলোতে সার্বক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরদারি চলবে। আইন অমান্য করে কেউ নদীতে জাল ফেললে তাৎক্ষণিকভাবে জেল-জরিমানা ও নৌকা জব্দ করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আকাশপথে ড্রোন ও নদীতে স্পিডবোটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যৌথ টহল পরিচালনা করবে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত জেলেরা তাদের বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরে নিষেধাজ্ঞার সময় পরিবার-পরিজনের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিএফের চাল যাতে প্রথম সপ্তাহেই সঠিকভাবে পৌঁছায়, সেই অনুরোধ জানান। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়ে বলেন, তালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি প্রকৃত জেলে পরিবারের জন্য নির্ধারিত খাদ্য সহায়তা সময়মতো পৌঁছে দেওয়ার সকল প্রশাসনিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে পরিবার নিয়ে জেলেদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।






