গোপালগঞ্জ, ২২ সেপ্টেম্বর (দেশপত্রিকা প্রতিনিধি): প্রাকৃতিক জলাশয়ে দেশীয় মিঠাপানির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গোপালগঞ্জে বিভিন্ন সরকারি উন্মুক্ত জলাশয় ও প্লাবনভূমিতে ব্যাপকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। রাজস্ব বাজেটের আওতায় জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে সোমবার সদর উপজেলা ও টুঙ্গিপাড়ার নির্বাচিত প্রাতিষ্ঠানিক পুকুর ও মুক্ত জলাশয়ে এ পোনা অবমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশসহ দেশীয় প্রজাতির মানসম্মত কার্প জাতীয় পোনা অবমুক্ত করা হয়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে এসব পোনা নির্দিষ্ট জলাশয়ে অবমুক্ত করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জের ভৌগোলিক গঠন অসংখ্য বিল, খাল ও প্লাবনভূমি দ্বারা পরিবেষ্টিত। একসময় এসব জলাশয়ে প্রচুর প্রাকৃতিক মাছ পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার ও অপরিকল্পিত জলমহাল ইজারার কারণে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছিল।
মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মুক্ত জলাশয়ে পোনা ছাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবী সমিতি ও স্থানীয় সুফলভোগী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অবমুক্ত করা পোনাগুলো যাতে পরিপক্ব না হওয়া পর্যন্ত অবাধে বড় হতে পারে, সেজন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল বা মশারিজাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ রাখতে স্থানীয়দের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশদের তদারকি দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশীয় মাছ আমাদের প্রাণিজ আমিষের প্রধান উৎস। উন্মুক্ত জলাশয়ে পর্যাপ্ত মাছ থাকলে স্থানীয় দরিদ্র মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ হবে এবং গ্রামীণ জেলেদের নিয়মিত আয়ের পথ সুগম হবে। মৎস্য বিভাগ জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয় ও অভয়াশ্রমে দেশীয় পোনা মাছ অবমুক্তকরণের এই ধারাবাহিক কর্মসূচি বজায় রাখবে বলে নিশ্চিত করেছে।






