বাংলাদেশের শাসনতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জসমূহ নিরসনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি আজ এক যুগান্তকারী সংলাপের সূচনা করেছে। সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই পরামর্শক বৈঠকে দেশের প্রথিতযশা আইনজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় মূল জোর দেওয়া হয় ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি (Separation of Powers)-র বাস্তব প্রয়োগের ওপর। বিশেষ করে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনপূর্বক সুপ্রিম কোর্টের অধীনে ন্যস্ত করা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা নির্ধারণে সুস্পষ্ট সাংবিধানিক রূপরেখা প্রণয়ন এবং ন্যায়পাল পদটির পূর্ণাঙ্গ কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত সুপারিশ পেশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান শর্ত হলো জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রযন্ত্র। রাজনৈতিক ব্যবস্থার সুস্থ বিকাশ এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে যেসকল আইনি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা দূর করতে আইনসভায় দলমত নির্বিশেষে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণে কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, অতীতে বিভিন্ন সময়ে সংবিধানের সংশোধন যেভাবে রাজনৈতিক সংকটের কারণ হয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার জাতীয় সমঝোতার ভিত্তিতে টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করা সময়ের অপরিহার্য দাবি।
