চট্টগ্রাম, ২২ সেপ্টেম্বর (দেশপত্রিকা প্রতিনিধি): চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সড়কগুলোর সৌন্দর্য বৃদ্ধি, দৃষ্টিদূষণ রোধ এবং পথচারীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে অনুমোদনহীন ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও ফুটপাত দখলদারদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সোমবার সকাল থেকে নগরীর আন্দরকিল্লা, চকবাজার, জিইসি মোড় এবং আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং পরিচ্ছন্নতা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ফুটপাত ও সড়ক বিভাজকে অবৈধভাবে ঝুলিয়ে রাখা কয়েক শতাধিক প্লাস্টিক ব্যানার, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক ফেস্টুন এবং লোহার কাঠামোর অনুমোদনহীন বিজ্ঞাপন বোর্ড অপসারণ করা হয়। একই সাথে যেসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও দোকান ফুটপাত দখল করে মালামাল রেখে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল, তাদের সতর্ক করার পাশাপাশি প্রতীকী জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযানকালে চসিকের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, “চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ফুটপাত হচ্ছে পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য। কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে পথচারীর অধিকার ক্ষুণ্ণ করে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া নগরীর শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য বিনষ্টকারী সকল অনুমোদনহীন ব্যানার-বিলবোর্ড নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে।”
অভিযানের সময় চসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে অপসারিত বর্জ্য ও অবৈধ কাঠামোগুলো ট্রাকে করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করে। পথচারী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা চসিকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নগরীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে ফুটপাত মুক্ত থাকায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমেছে। নগরবাসীর দাবি, এ ধরনের অভিযান যেন একদিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বজায় রাখা হয়। চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডেই ধারাবাহিকভাবে এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।



